নবীগঞ্জে জাইকার ১০ কোটি টাকার প্রকল্প: সেচসুবিধা পাবেন কয়েক হাজার কৃষক

নবীগঞ্জে জাইকার ১০ কোটি টাকার প্রকল্প: সেচসুবিধা পাবেন কয়েক হাজার কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি., নবীগঞ্জ

০২/১১/২০২৬ ১৩:৪৪:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচসুবিধার সম্প্রসারণ ও পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বরচারা খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৬০৯ হেক্টর ফসলি জমি সেচসুবিধার আওতায় আসবে। এতে উপকৃত হবেন কয়েক হাজার কৃষক।

প্রকল্পের আওতায় পানিউমদা, বরকান্দি ও কুর্শা এলাকায় খাল খনন ও খালের পাড় মেরামত, সুইচগেট ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালে শেষ হয়। প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬১১ জন নারী ও পুরুষকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে সেচব্যবস্থা পরিচালনা, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রকল্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে সেচের পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে খাল, সুইচগেট ও অন্যান্য অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ তানজির উল্লাহ সিদ্দিকী। প্রধান অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকা হাসি ঝুমকো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এমডি বেলাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মাওলা। এ ছাড়া প্রকল্পের পরিচালক (পিডি), উপপ্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরচারা খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নবীগঞ্জের কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সেচসুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদে আরও উৎসাহিত হবেন। এর ফলে কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad