হবিগঞ্জের চার চা বাগানে ৫ হাজার শ্রমিক সংকটে :৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ

হবিগঞ্জের চার চা বাগানে ৫ হাজার শ্রমিক সংকটে :৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০২/১১/২০২৬ ১১:৫১:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকদের তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ দিন মজুরি না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোম্পানির প্রায় পাঁচ হাজার চা শ্রমিক।

একই সঙ্গে এসব বাগানের তিনটি ফাঁড়ি বাগান গিলানি, কাপাই ও রঘুনন্দনেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মজুরি না পেয়ে ছয় দিন ধরে শ্রমিকদের কর্মবিরতির মুখে বাগানগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন শ্রমিকরা। রোববার দুপুরে নিজেদের মজুরি বকেয়া থাকার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চা শ্রমিকরা।

এ ছাড়া নানামুখী সংকটের মাঝে নিজেদের অবস্থা জানান দিতে এবং দ্রুত চলমান সমস্যা সমাধানের দাবিতে চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া পাওনার কিস্তি বাবদ প্রত্যেক শ্রমিকের চার হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। হিসাব করলে দেখা যায়, চারটি বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি থেকে কেটে নেওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) চাঁদা এবং মালিকপক্ষের অংশসহ মোট ৪৭ মাসের পিএফের টাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এর ফলে চা শ্রমিকরা পিএফের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাগানগুলোতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নির্ধারিত চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এতে নিম্ন আয়ের এই জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি শ্রমিকদের বাসস্থান নির্মাণ, দরজা-জানালা-ছাউনি মেরামতসহ মৌলিক গৃহায়ণ সুবিধাও বন্ধ রয়েছে।

ভুক্তভোগী চা শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা এ দেশেরই নাগরিক। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করলেও সামান্য উপার্জনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুই বেলা ঠিকমতো খাবার জুটাতে পারছেন না তারা। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে তাদের দিন কাটছে। তারা এই সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, দেউন্দি টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চা শ্রমিকদের হয়রানি ও বঞ্চিত করছেন। অথচ শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। এত কষ্টের পরও শ্রমিকদের চিকিৎসা ও নাগরিক সুবিধার দিক একেবারে বেহাল। নেতাো অবিলম্বে শ্রমিকদের নায্য অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায় থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, স্মারকলিপিতে শ্রমিকদের চার সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের মাথাপিছু প্রায় চার হাজার টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা হলেও শ্রমিকদের হিসাবে তা দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা কাজ বন্ধ করেছেন।

বাগান সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, জেলা প্রশাসক তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করে কয়েক দিনের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক রিয়াজ রহমান জানান, শ্রমিকরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। অর্থসংস্থান করতে তারা চেষ্টা করছেন। টাকা পাওয়া গেলে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা হবে। বছরের পর বছর লোকসানের কারণে বাগানগুলো বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে, যার কারণে শ্রমিকদের কষ্ট করতে হচ্ছে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad