ননীছড়ায় দখল-দূষণ: সুরক্ষায় পদক্ষেপ চায় পরিবেশকর্মীদের প্রতিনিধিদল

ননীছড়ায় দখল-দূষণ: সুরক্ষায় পদক্ষেপ চায় পরিবেশকর্মীদের প্রতিনিধিদল

প্রথম ডেস্ক

০৩/১১/২০২৬ ২০:২১:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট-তামাবিল সড়কের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান থেকে প্রবাহিত ‘ননীছড়া’ দখল ও দূষণের শিকার হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক প্রতিবেশ রক্ষায় প্রাকৃতিক এই ছড়াটি অবিলম্বে দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উত্তর-পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবাহিত ননীছড়ার অংশবিশেষ পরিদর্শন করে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট’-এর একটি প্রতিনিধিদল।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ছড়াটিতে আশপাশের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছড়ার ওপর অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছড়াটি রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে তা সুফল আনছে না।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ছড়াটি পরিদর্শনে যায়। এ সময় তাঁদের স্বাগত জানান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমিরেটাস তৌফিক রহমান চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী এবং উপাচার্য মোহাম্মদ জহিরুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মুহিতুল বারী রহমান জানান, ছড়াটিকে দূষণমুক্ত রাখতে তাঁদের পক্ষ থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কের অংশে লোহার জালি বসানো হয়েছে এবং ছড়ার তীরে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তবে এলাকার একাংশ ছড়ার জায়গা সংকুচিত করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

পরিদর্শন শেষে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের এই প্রাকৃতিক ছড়ার বর্জ্য নিম্নাঞ্চলের হাওর ও বিলের পানি দূষিত করছে। প্লাস্টিক বর্জ্যের এমন প্রবাহ শুরুতেই প্রতিরোধ করা না গেলে তা পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ সংগঠক আবদুল করিম কিম বলেন, ‘পূর্বে দখলের কারণে সিলেট নগরের অনেক ছড়া সংকুচিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভেঙে উচ্ছেদ করতে হয়েছে। খাদিমনগরেও যাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে ছড়া দখল করছেন, তাঁদের সতর্ক হতে হবে; ভবিষ্যতে এসব অবৈধ দখলও উচ্ছেদ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষায় সব সময় সংবেদনশীল। শুধু ক্যাম্পাসসংলগ্ন ননীছড়া নয়, সিলেটের অন্যান্য নদী ও ছড়া রক্ষায় তাঁরা পরিবেশকর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নওশাদ মোস্তফা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল স্কুলের ডিন শেখ আশরাফুর রহমান, আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস স্কুলের ডিন মোস্তাক আহমেদ দিন, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, পরিবেশকর্মী রেজাউল কিবরিয়া, সোহাগ তাজুল আমিন, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার প্রমুখ।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad