মানিক পশারির দাফনে বাধা
উত্থাল সুনামগঞ্জ : বিচারের দাবিতে রাজপথে বীর মুক্তিযোদ্ধারা
জীবনের মায়াত্যাগ করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন যে বীর সন্তানেরা, আজ স্বাধীন দেশেই তাঁদের সহযোদ্ধার শেষ বিদায়ে ঘৃণ্য বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে—এই চরম অপমান ও তীব্র ক্ষোভে দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর।
পীরগঞ্জে ঘটে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা প্রদানের জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এই ঘটনাকে বীরদের প্রতি চরম অবমাননা ও জাতীয় লজ্জাকর আখ্যা দিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
সকালে শহরের জেল রোড এলাকা থেকে সহ শত বীর মুক্তিযোদ্ধার অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষোভের বার্তা ছড়িয়ে আলফাত স্কয়ারে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা জুড়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছুটে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে আলফাত স্কয়ার কার্যত এক প্রতিবাদী মঞ্চে রূপ নেয়।
সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হাজী নুরুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ক্ষুব্ধ বক্তব্য দেন তাহিরপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ, দোয়ারাবাজারের সফর আলী, ছাতকের তোতা মিয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আশরাফুল ইসলাম রাজুসহ অনেকেই।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৭১-এর রণাঙ্গনে আমরা জীবনের বাজি রেখে বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলাম। অথচ আজ স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর দাফনে বাধা দেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে! একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়টুকু যদি সসম্মানে নিশ্চিত না হয়, তবে এই জাতির চেয়ে হতভাগ্য আর কেউ হতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা কেবল পরিবারের নয়, এটি রাষ্ট্র ও পুরো জাতির সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়।
তাঁরা হুংকার দিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও আত্ম মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। পীরগঞ্জের এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে, কিসের স্বার্থে এই বাধা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে জনসমক্ষে আনতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কুচক্রী মহল বীরদের অপমান করার সাহস না পায়।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল বরণ আচার্য, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহ্বায়ক কমান্ডার আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব প্রভাত রঞ্জন তালুকদার, জগন্নাথপুর উপজেলার কমান্ডার শাহ সিরাজ কুতুবী, জামালগঞ্জের কমান্ডার আব্দুল কাদির, দিরাইয়ের উমুদ রঞ্জন দাস, বিশ্বম্ভরপুরের সৈয়দ জসিম উদ্দিন ও শান্তিগঞ্জের আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের শেষ ভাগে বীর সন্তানেরা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান সহ্য করে নীরব বসে থাকার দিন শেষ। সহযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধাদানকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: