শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য,অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিদ্যুৎ সরকারের
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ২নং হবিবপুর ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাকুয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যুৎ সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শাল্লা উপজেলা প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যুৎ সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদ্যুৎ সরকার দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগে একই গ্রামের সুমন রানী দাসকে চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ওই নারী ৬ হাজার টাকা ফেরত দেন। বাকি ৪ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তাঁর স্ত্রী বর্না রানী সরকার তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল তাঁর স্ত্রীকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস উভয় পক্ষকে ডেকে আলোচনা করে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। ওই সময় সুমন রানী দাস পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়টি স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সরকার আরও বলেন, প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জুয়েল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই রেকর্ড সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি কোথাও এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছি। এখনো তথ্য সংগ্রহকারী পদে অনলাইনে আমার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু কেন আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তা আমি জানি না।’
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ, ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন এবং এ-সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এক পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলছে, অন্য পক্ষ নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
নিশিকান্ত সরকার/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: