অবৈধ বালু খেকোদের জেল-জরিমানা, জব্দ হচ্ছে নৌকা
যাদুকাটা নদী রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদী এবং টাংগুয়ার হাওর–এর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল–জরিমানা ও নৌকা জব্দের মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরুখ আলম শান্তনু–এর নেতৃত্বে প্রতিদিনই অভিযান চলছে। এসব অভিযানে নিয়মিত জেল ও জরিমানা হচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের।
ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “আমি ১৭ আগস্ট কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে দুই মাসের মধ্যে যাদুকাটা ও শান্তি নদীসহ টাংগুয়ার হাওরে ৪১টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৬৪টি মামলা, ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়, ৬০ জনের কারাদণ্ড এবং ২৮টি স্টিলবডি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। আইন ভাঙলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে অভিযান চলমান থাকবে। তবে অভিযান চালানোর পরও চোরাচালান ও বালু উত্তোলন চক্র রুট পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল করে বালু উত্তোলন করছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। নতুন ইউএনও যোগদানের পর অভিযান শুরু হওয়ায় অনেকাংশে কমেছে এই অবৈধ কার্যক্রম।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, “ইউএনও যোগদানের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যাদুকাটা ও টাংগুয়ার হাওরে যেভাবে অভিযান পরিচালনা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। আগেও কেউ এত কার্যকর অভিযান চালাননি। তিনি একজন কর্মঠ ও সৎ কর্মকর্তা।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: