ব্যতিক্রমী উদ্যোগে কুলাউড়ায় আলোড়ন
কুলাউড়ায় ৪০ দিন নামাজ শেষে পুরস্কার পেল ৬০ শিশু-কিশোর
এ যেন এক নবজাগরণের সূচনা —যেখানে আলোর দিশা মসজিদের মাইকে, আর অনুপ্রেরণার উৎস শিশুদের কপালের সেজদার দাগে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম — কিন্তু এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে এক অসাধারণ আলোর দৃষ্টান্ত।
মনসুর ইসলামিক সোসাইটির উদ্যোগে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করে ৬০ জন শিশু-কিশোর জিতে নিয়েছে সমাজের ভালোবাসা, সম্মান ও পুরস্কার।
শুক্রবার বিকেলে মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা মাঠে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের। মাঠজুড়ে ছিল হাসি, আনন্দ আর এক অনন্য প্রেরণার স্রোত।
যারা টানা ৪০ দিন নামাজে উপস্থিত থেকেছে, তাদের মধ্যে দুজন পেল বাইসাইকেল, তিনজন পেল টেবিল ফ্যান, পাঁচজন পেল টেবিল, আর বাকিরা পেল বিভিন্ন উপহার সামগ্রী — কিন্তু আসল পুরস্কার, তারা পেল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নামাজের অভ্যাস।
কিশোর রাকিব, যিনি বাইসাইকেল পুরস্কার পেয়েছেন, চোখে উজ্জ্বল আলো নিয়ে বললেন —
“এখন মসজিদে যাওয়া আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পুরস্কার নয়, নামাজ পড়া এখন আমার ভালো লাগার কাজ। আমি চাই সারা জীবন যেন জামাতে নামাজ আদায় করতে পারি।”
মনসুর ইসলামিক সোসাইটির পরিচালক সোহেল আহমদ বলেন —
“আমরা চাই নতুন প্রজন্ম যেন মোবাইলের আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে নামাজ ও ভালো কাজে যুক্ত হয়। এই কর্মসূচি তারই একটি পদক্ষেপ।”
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন তাঁর বক্তব্যে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন —
“এই শিশু-কিশোররাই আমাদের ভবিষ্যতের আলো। নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে, সৎ পথে রাখে। যদি প্রতিটি এলাকায় এমন নামাজ প্রতিযোগিতা হয়, তবে সমাজে ভালো মানুষ তৈরি হবে, আর দেশ এগিয়ে যাবে।”
একটি ছোট গ্রাম, কিছু নিষ্পাপ শিশু, আর কিছু সচেতন মানুষের প্রচেষ্টা — কিন্তু এর মাধ্যমে জন্ম নিচ্ছে এক আধ্যাত্মিক বিপ্লব।
মোবাইল ও বিভ্রান্তির যুগে যেখানে অনেক শিশু হারিয়ে যাচ্ছে দিকহারা জীবনে, সেখানে এই ৬০ জন শিশু হয়ে উঠেছে নামাজপ্রেমী প্রজন্মের প্রতীক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: