সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগীর চাচা আব্দুল মতিন, মামা জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম, তাহির আলী, ময়না মিয়া, কবির হোসেনসহ অনেকে। পরে দুপুর দুইটায় উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক নিজাম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, জমসিদ আলী, আসকর আলী, শিক্ষার্থী আমিনা আক্তার ও রুজিনা আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্কুল ছাত্রীকে রাতের আধারে ধর্ষণের চেষ্টা ও কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বাইরে সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মেয়েরা এখন স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। আসামী হাবিবুর রহমানসহ জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের নতুননগর গ্রামে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালানোর চেষ্টা করে বখাটে হাবিবুর রহমান। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আহত ছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার হাতের হাড় ভেঙে গেছে এবং অবস্থাও এখনও আশঙ্কাজনক।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, “ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
মন্তব্য করুন: