সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতাকে ১০ লাখ টাকার চেক দেওয়া কর্মীর অ্যাকাউন্টে আছে ৩,৪১২ টাকা
সুনামগঞ্জ–১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুলের হাতে নির্বাচনী খরচের জন্য ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন এক কর্মী—যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৩ হাজার ৪১২ টাকা। ঘটনাটি এখন সুনামগঞ্জজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে বিএনপির এক নির্বাচনী সমাবেশে কর্মী নূর কাসেম (৩৭) চেকটি মঞ্চে তুলে দেন কামরুজ্জামানের হাতে। উপস্থিত হাজারো নেতা–কর্মীর সামনে কামরুল চেকটি প্রদর্শন করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
নূর কাসেমের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের মান্দিয়াতা গ্রামে। তিনি পেশায় কৃষক, পাশাপাশি ইট কেনাবেচার ছোটখাটো ব্যবসা করেন। লেখাপড়া জানা নেই—কোনোমতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে নূর কাসেম বলেন, “আমি ওনারে (কামরুল) ভালা পাই, উনি গরিবের জন্য কাজ করেন। তাই মনের আবেগে চেক দিছি। আমার টেকা নাই, কিন্তু দরকার হলে শ্রীপুর বাজারে আমার ভিটা বিক্রি কইরা দিমু।”
তিনি আরও বলেন, “আমি রাজনীতি বেশি বুঝি না, কাম করি খাই। খারাপ কিছু করতে চাই নাই, শুধু ভালা পাইয়া দিছি।”
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুল, যিনি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, জানিয়েছেন—“নূর কাসেম ভাইয়ের ভালোবাসার প্রকাশ এটা। তবে আমি এই চেক গ্রহণ করব না, ফেরত দেব। বিষয়টি আমি কর্মীদের ভালোবাসা হিসেবেই দেখছি।”
জানা গেছে, সমাবেশে কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন জানাতে ফুল ও টাকার মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান কামরুলকে। এর মধ্যেই নূর কাসেম মঞ্চে উঠে ১০ লাখ টাকার চেকটি তুলে দেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আরও রয়েছেন প্রয়াত নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক, যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী হামিদুল হক আফিন্দী, এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব খান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: