তাহিরপুরে পর্যটকদের চাপ কম, তবে প্রকৃতি এখন আরও মোহনীয়
সুনামগঞ্জের সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর উপজেলা তাহিরপুরে বর্তমানে পর্যটকদের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে বর্ষার পর প্রকৃতি এখন যেন নতুন সাজে সেজেছে—হাওর, টিলা, নদী আর লেকের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের আহ্বান জানাচ্ছে নতুন রূপে।
টানা বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় হাওরের জেগে ওঠা চর, মাঠঘাট ও কান্দাগুলোতে এখন সবুজ ঘাসের কার্পেট বিছানো। নানা প্রজাতির লতা-পাতা, তরুলতা আর বৃক্ষরাজির সমারোহে প্রকৃতি এখন উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। টাংগুয়ার হাওরের জলরাশি, বিকিবিলের লাল শাপলা, বারেক টিলা, নীলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী আর শিমুল বাগান—সবকিছুতেই ফুটে উঠেছে শীতের আগমনী সৌন্দর্য।
স্থানীয় তরুণ লাল শাহ বলেন, “বর্ষার পর হাওরাঞ্চল যেন এক নতুন রূপ নিয়েছে। সবুজে ঘেরা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়।”
তাহিরপুরের পাঁচটি প্রধান পর্যটন স্পট—টাংগুয়ার হাওর, শিমুল বাগান, বারেক টিলা, নীলাদ্রি লেক ও যাদুকাটা নদী—প্রতিটিই এখন পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করে যে শিমুল বাগানের সূচনা করেছিলেন, সেটিই আজ দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান হিসেবে পরিচিত।
বারেক টিলা, স্থানীয়ভাবে গোঁপ টিলা নামে পরিচিত, এখন সবুজে মোড়ানো। নীলাদ্রি লেক, যা আগে ট্যাকেরঘাট বিসিআইসির চুনাপাথর উত্তোলন প্রকল্প এলাকা ছিল, খনিজ উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট বিশাল গর্তে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব নীলাভ লেক। অনেকে এটিকে “শহীদ সিরাজ লেক” নামেও চেনে।
নৌ পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতি ও নৌযান মালিক (সাবেক নির্বাচন কমিশনার) সাইকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “এখন পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে। আগে প্রতিদিন শতাধিক নৌযান ব্যস্ত থাকত, এখন কোনো কোনো দিনে তিন-চারটি নৌকা ভাড়া হয়, তাও কম দামে। আগে এক মৌসুমে নৌযান দিনে এক লাখ টাকাও আয় করত, এখন ১৫ হাজার টাকাও পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাড়লেও নৌভাড়া আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “তাহিরপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পর্যটন অঞ্চল। আমরা টেকসই ও নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে কাজ করছি। নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। আশা করছি, আসন্ন শীত মৌসুমে আবারও পর্যটকের ঢল নামবে তাহিরপুরে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: