চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের
ছাতকের ইছামতী বাজারে ভয়াবহ সংঘর্ষ: দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, ৬ জন আটক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ইছামতী বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে একাধিক দোকানপাটে, এবং দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের লুবিয়া ও বনগাঁও গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। চোরাচালান ও এলসির চুনাপাথর পরিবহন ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। লুবিয়া গ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য মোহিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কামরুজ্জামান এবং বনগাঁও গ্রামের সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর অনুসারী খলিফা ফজল করিমের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরপরই উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতভর তিন দফা সংঘর্ষ হয়। এতে দা, কিরিচ, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে বনগাঁও গ্রামের মানিক মিয়া এবং লুবিয়া গ্রামের দিলোয়ার হোসেন ও মুক্তার হোসেনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় ইছামতী বাজারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান ভাঙচুর করে এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বনগাঁও গ্রামের খলিফা ফজল করিম অভিযোগ করেন, “লুবিয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।” অপরদিকে কামরুজ্জামান বলেন, “বনগাঁও গ্রামের লোকজনই আগে হামলা করেছে, আমরা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি।”
এ ঘটনায় বনগাঁও গ্রামের আহত মানিক মিয়ার স্ত্রী সাহিমা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে ছাতক থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— লুবিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান (৪০), হযরত আলী (২৬), মাজদে মিয়া (২৫), সারপিনপাড়া গ্রামের খুর্শেদ আলম (২৫), হাবিবনগর গ্রামের রাসেল আহমদ (২১) এবং দোয়ারাবাজারের আব্দুল হেকিম (৫৫)।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: