ভোটের মাঠে নতুন সম্ভাবনা
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এনসিপির মনোনয়ন ফরম কিনলেন ছাত্রনেতা তুহিন
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও ছাত্রনেতা মাহমুদুল হাসান তুহিন। এনসিপি থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তিনি শনিবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছি। এলাকার মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন আমার শক্তি। সত্যিকারের জনসেবা এবং পরিবর্তনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।”
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তুহিন বলেন, “এ এলাকার মানুষের মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব। দেশের রাজনীতি এখন পরিবর্তনের দোরগোড়ায়। জনগণ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ক্ষমতার রাজনীতি করবে না—মানুষের পাশে থাকবে সারাবছর। এনসিপি সেই দায়িত্ব নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, সেবা। দল মানে জনগণের শক্তি। সততা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতাই আমাদের মূলমন্ত্র।”
এদিকে জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনসিপির আবির্ভাবকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে “এনসিপি একটি বড় অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে। তারা সংগঠিত হয়ে বিএনপি–জামায়াতের মতো বড় দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সক্ষমতা রাখে। নির্বাচন অবাধ–সুষ্ঠু–নিরপেক্ষ হলে যেকোনো দলেরই সরকার গঠনের সম্ভাবনা আছে।”
তাদের আরও মত, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন তিনটি প্রধান দল এবং সামরিক শাসন দেখেছে। তাই এখন তারা পরিবর্তন চাইছে। তরুণরা যদি সত্যিকারের পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে পারে এবং আচরণ, বক্তব্য ও কর্মধারায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে রাজনীতিতে নতুন কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে তুহিনের মনোনয়ন ফরম নেয়া স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: