সিলেটে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় বিএনপিতে দোষারোপের খেলা
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের ৫০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন শুধু অপরাধ তদন্তের বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক বক্তব্যের ‘টানাপোড়েন নাটক’-এ পরিণত হয়েছে। একদিকে অভিযোগ, অন্যদিকে অস্বীকার—দলের ভেতর থেকেই আসছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলছে। বিশাল অংকের টাকা ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী এবং ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে নাম এসেছে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলামের। এর পরই শুরু হয় সমালোচনা।
গত ৮ মে সকালে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় ফিল্মি কায়দায় নাসিম হোসাইনের গাড়ি থামিয়ে দুর্বৃত্তরা ৫০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে মোগলাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় “কে বলল কী বলল” অধ্যায়।
এক অনুসন্ধানী দাবিতে বলা হয়, ছিনতাইয়ের নেপথ্যে মহানগর ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় চাপা উত্তেজনা। তবে বিষয়টি ঘুরে যায় দ্রুতই।
কারণ, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তারেক আহমদ খান এক ফেসবুক পোস্টে পুরো অভিযোগকেই “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাউকে সরাসরি আসামি করা হয়নি, তদন্ত চলমান—এবং সামাজিক মাধ্যমে “গুজব ছড়ানো হচ্ছে”।
অন্যদিকে, অভিযোগপক্ষের দাবি ভিন্ন—তারা বলছে, এটি সাধারণ ছিনতাই নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা, যেখানে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ছায়া থাকতে পারে।
এখানেই শুরু হয় মূল নাটকীয়তা—একই ঘটনায় দলীয় অবস্থান দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে যায়। একপক্ষ বলছে “পরিকল্পিত চরিত্রহনন”, আরেকপক্ষের অভিযোগ “ভেতরেই নাকি মাস্টারমাইন্ড”।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করে বলছেন, “এখন তদন্তের আগেই তদন্ত রিপোর্ট লিখে ফেলছে ফেসবুক আর বিবৃতি।” ফলে ছিনতাইয়ের ঘটনা যতটা না আলোচনায়, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় কে কাকে বাঁচাতে চাইছে—আর কে কাকে ফাঁসাচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটিকে ঘিরে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় মূল বিষয় থেকে নজর সরানোর চেষ্টা চলছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও এসব দাবি এখনো যাচাই করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ৫০ লাখ টাকার ছিনতাই এখন শুধু অপরাধ তদন্ত নয়—সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিণত হয়েছে এক “কে বলল সত্য, কে বলল নাটক”—এই প্রশ্নের গোলকধাঁধায়।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: