মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগ নেতাকে শেখ হাসিনার সান্ত্বনা
“নাম-ঠিকানা লিখে রাখো, আমি খুব দ্রুত ফিরছি’
একটি ব্যাডমিন্টন ম্যাচ জয়ের উচ্ছ্বাস। কয়েকটি স্লোগান। তারপরই যেন বদলে যায় দুই তরুণের জীবন। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সজিব আহমদ ও তাঁর সহযোগী জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আর সেই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা–এর সঙ্গে সজিবের একটি আবেগঘন ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সজিব আহমদের ভাষ্য, স্থানীয় একটি মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলায় জয়ের পর আবেগের বশে তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সজিবের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর তাঁদের পিলারের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে রিমান্ড ও কারাগারে কাটানো দীর্ঘ ৩ মাস ২০ দিন ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় সময়।
“আমরা শুধু স্লোগান দিয়েছিলাম। এভাবে নির্যাতন করা হবে কখনো ভাবিনি”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন সজিব। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দাবি করে তিনি এই ঘটনার বিচার চান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপের অডিওতে শেখ হাসিনাকে সজিবের সাহসের প্রশংসা করতে শোনা যায়। তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, যারা নির্যাতন করেছে তাদের নাম-ঠিকানা লিখে রাখতে।
ফোনালাপের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, “নাম-ঠিকানা লিখে রাখো। একদিন ওদের দিয়েই জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ানো হবে।” আরও আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবো। এই অন্ধকারের যুগ থাকবে না। একদিন এই জয় বাংলা স্লোগান আবারও বাংলাদেশের আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াবে।”
ফোনালাপটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রতি রাজনৈতিক সহমর্মিতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন।
তবে ভাইরাল হওয়া ফোনালাপের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: