'ভুল শব্দ ব্যবহার করেছি, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করেছি'
Led Bottom Ad

বিতর্কের জবাবে ফেরদৌসী জব্বার

'ভুল শব্দ ব্যবহার করেছি, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করেছি'

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১১/০৫/২০২৬ ১৮:৫৫:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​শাল্লা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও রাজপথের দীর্ঘদিনের লড়াকু নেত্রী ফেরদৌসী জব্বার তাঁর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং যা বলেছেন তা একান্তই সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেগের বহিঃপ্রকাশ।


​ফেরদৌসী জব্বার বলেন, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুশৃঙ্খল পরিবারের সদস্য। তিনি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ জব্বারের কন্যা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শকে ধারণ করে আসছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দশম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাবস্থায় পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতার প্রমাণ দিয়েছিলেন।


​নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে ফেরদৌসী জব্বার সরাসরি বলেন, আমি হয়তো ভুল শব্দ ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনো অপরাধ করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও হতাশার কথা শুনে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। সেই মুহূর্তে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এমন কিছু শব্দ মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এজন্য আমি লজ্জিত এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবো।


​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুনামগঞ্জ-২ আসনে দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে গ্রামের ২৮ জন নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি গুরুতর মামলা থেকে তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি আইনি ও সামাজিকভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।


​শাল্লার এক ফসলি অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে ফেরদৌসী জব্বার একটি নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি ‘সুপ্রিম সিড’ কোম্পানির বিশেষ জাতের “হিরা ধান” চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ধানের বিশেষত্ব হলো, ​এটি মাত্র ১২০ থেকে ১২৫ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব। ​অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ​দ্রুত পাকা ধান ঘরে তুলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর মূল লক্ষ্য।


​তিনি জানান, খুব শীঘ্রই কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি কৃষকদের সাথে সরাসরি উঠান বৈঠক ও পরামর্শ সভার আয়োজন করবেন।


​রাজনীতির পাশাপাশি ফেরদৌসী জব্বার দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। বেকারদের কর্মসংস্থান, অসুস্থদের সুচিকিৎসা, দরিদ্র কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা এবং করোনাকালে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজে তিনি সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।


​বক্তব্যের ইতি টেনে ফেরদৌসী জব্বার বলেন, আমি শাল্লার সন্তান। আমার এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াই আমার পরম পাওয়া। কোনো পদ-পদবী বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আমি রাজনীতি করি না। মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য এবং আমৃত্যু আমি সাধারণ মানুষের পাশেই থাকবো।


​স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেরদৌসী জব্বারের এই স্পষ্টীকরণ এবং কৃষিবান্ধব পরিকল্পনাগুলো তৃণমূলের সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করবে।

প্রীতম দাস/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad