হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে একটি সেতুর জন্য কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রেমা চা-বাগান এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কাছে খোয়াই নদী এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত না হওয়ায় যাতায়াতের আদিম ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতেই অভ্যস্ত হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন নদীর পানি ফুঁসে ওঠে, তখন এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেমা চা-বাগানের শ্রমিক ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। চা-শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনির প্রয়োজনে তাঁদের এই নদী পাড়ি দিতে হয়, কিন্তু সেতু না থাকায় প্রায়ই সময়মতো কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে; সেতুর অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেন, কিন্তু পরে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ এই অঞ্চলে একটি সেতু হলে আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও চা-পাতা পরিবহন অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হতো।"
রেমা এলাকাটি পর্যটন ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা পুরো এলাকার উন্নয়নকে থমকে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনেছেন তাঁরা, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং অচিরেই এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। চুনারুঘাটবাসীর দাবি, এবার যেন শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে তাঁদের প্রাণের এই সেতুটি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: