রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
সুনামগঞ্জে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক ক্রাশার মেশিনে পরিবেশ ধ্বংস
সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলার লোকালয়ে প্রায় দুই শতাধিক অনুমোদনহীন ও অবৈধ স্টোন ক্রাশার মেশিনে চলছে প্রকাশ্য পাথর ভাঙার কাজ। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ২০১৯ সাল থেকে লাইসেন্স বন্ধ থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা মাসে শত কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর একটি রিট মামলার কারণে ২০১৯ সাল থেকে ক্রাশার মেশিনের লাইসেন্স বন্ধ রয়েছে। সরকার আদালতের নির্দেশনা মেনে লাইসেন্স বন্ধ রাখলেও ব্যবসায়ীরা তা না মেনে অবৈধভাবে পাথর ভাঙাচ্ছেন। সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায় দুই শতাধিক ক্রাশার মেশিন প্রকাশ্যে চালু থাকতে দেখা গেছে। লাইসেন্স চালু থাকলে প্রতি মেশিন থেকে বছরে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ বছরে সরকার হারিয়েছে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব।
অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র স্থাপিত এসব ক্রাশার মেশিনের কারণে মাটি, পানি ও বায়ু ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক শব্দদূষণে স্থানীয়রা শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। পাথরের ধুলো ও কণার কারণে শিশু-বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি বেড়েছে। এছাড়া কৃষিজমি দ্রুত অনুর্বর হয়ে পড়ছে এবং নদীর তীরও ক্রমাগত ভাঙছে।
গত এপ্রিল মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ৫৭টি ক্রাশার মেশিনে অভিযান চালিয়ে ৩৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে। এছাড়া কয়েকটি মেশিন জব্দ করা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যত কোনো পরিবর্তন হয়নি—ক্রাশারগুলো আগের মতোই চলছে।
অবৈধভাবে মেশিন চালানোর কথা স্বীকার করে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লাইসেন্স বন্ধ থাকায় তারা নবায়ন করতে পারছেন না। আনোয়ারপুরের ক্রাশার পরিচালক আমির হোসেন বলেন, ‘আগে লাইসেন্স ছিল। এখন সরকার দেয় না বলে আমরা নবায়ন করতে পারছি না। জরিমানা দিয়েই মেশিন চালাচ্ছি।’
জামালগঞ্জের এক ক্রাশারের মালিক লাল মিয়া বলেন, ‘আমরা বড় বিনিয়োগ করেছি, তাই ব্যবসা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। অনেক শ্রমিকের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার কারণে লাইসেন্স বন্ধ রয়েছে এবং এখনও স্টোন ক্রাশিং জোন স্থাপিত হয়নি। তবে অবৈধভাবে পরিচালিত মেশিনগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মামলা, নীতিমালা ও সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সুনামগঞ্জে ক্রাশার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা দ্রুত স্টোন ক্রাশিং জোন স্থাপন ও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: