৬৫% পদ শূন্য
জনবল সংকটে ধুঁকছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : ভোগান্তিতে রোগীরা
সুনামগঞ্জের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল চরম জনবল সংকটে ভুগছে। সরকার নির্ধারিত ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২৫৪টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে— যা মোট জনবলের প্রায় ৬৫ শতাংশ। ফলে জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসকের পদে সবচেয়ে বেশি শূন্যতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় একটু জটিল অবস্থার রোগীদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে। এতে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে; অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরছেন।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি টেকনোলজিস্ট, নার্স, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ প্রয়োজনীয় স্টাফের ঘাটতি হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে তুলেছে।
সিনিয়র কনসালটেন্ট: ১১টির মধ্যে ৭টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট: ১২টির মধ্যে ৬টি, অ্যানেস্থেটিস্ট: ৪টির মধ্যে ৩টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন: ১২টির মধ্যে ৬টি, মেডিকেল অফিসার: ১৭টির মধ্যে ১৩টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স: ২২৬টির মধ্যে ১৪১টি, স্টাফ নার্স: ১১টির মধ্যে ৮টি, মিডওয়াইফ: ১২টির মধ্যে ৯টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট: ১১টির মধ্যে ৩টি, ওয়ার্ডবয়: ১১টির সবগুলোই শূন্য, ক্লিনিং স্টাফ ১৯টির মধ্যে ১৬টি নেই। এ ছাড়া আয়া, দারোয়ান, এমএলএসএসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সহায়ক পদেও ব্যাপক শূন্যতা রয়েছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত, স্ট্রোক, হৃদরোগ বা জটিল রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাও ঠিকমতো পাচ্ছেন না।
জেলার সদর উপজেলার দিনা বেগম বলেন, “হাসপাতালে গেছি বড় ডাক্তার দেখানোর জন্য, গিয়েই শুনলাম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই।”
আরেক রোগী আজিমুন নেসা বলেন, “হাসপাতালে ওষুধ পাই না, খাওন-দাওনের ব্যবস্থাও ভালো না। চিকিৎসা নেওয়া কষ্টকর।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটি প্রত্যন্ত হাওর এলাকার হাসপাতাল। বাইরের ডাক্তাররা এসে দীর্ঘদিন থাকেন না। জনবল পূরণে আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করছি।”
আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,“আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।”
স্বাস্থ্যকর্মী সংকটে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন রোগীরা। কিন্তু তাদের মানও ততটা উন্নত নয়। ফলে জটিল রোগীদের সিলেটে ছুটতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবে মানুষকে বিপদে ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: