তাহিরপুরে অনুমোদিত টিটিসি প্রকল্প স্থানান্তর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান
একনেকে অনুমোদিত তাহিরপুর উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রকল্প অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী। রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, তাহিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ফেরদৌস আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, টিটিসি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, যুগ্ম আহ্বায়ক মু. সফিকুল ইসলাম, সুজনের জেলা সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ, সদস্য সচিব মো. সুহেল আলম, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা সেক্রেটারি তোজাম্মিল হক নাসরুম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্যের কারণে বছরের পর বছর ধরেই পিছিয়ে রয়েছে তাহিরপুর। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে একনেকে অনুমোদন পাওয়া টিটিসি প্রকল্পটি উপজেলাবাসীর জন্য ছিল একটি বড় আশা। কিন্তু কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে এলাকায়।
তথ্য অনুযায়ী, তাহিরপুরে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হলেও এখানে নেই কোনো স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রয়েছে মাত্র দুইটি কলেজে স্নাতক (পাস) কোর্স, দুইটি আলিম এবং দুইটি দাখিল মাদরাসা—কিন্তু নেই কোনো ফাজিল বা কামিল মাদরাসা। অন্যদিকে পুরো উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও নেই।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই জনবহুল, পশ্চাদপদ ও দুর্গম উপজেলায় টিটিসি প্রকল্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি অন্যত্র সরিয়ে নিলে এখানকার তরুণদের শিক্ষাগত উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে।”
তারা দ্রুত প্রকল্পটি তাহিরপুরেই বহাল রাখার দাবি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: