সুনামগঞ্জের বধ্যভূমি: স্মৃতিস্তম্ভের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আকুতি
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জের নিরীহ মানুষরা যে অমানবিক বর্বরতার শিকার হয়েছিল, তার স্মৃতি আজও হৃদয়কে বিদীর্ণ করে। স্বাধীনতার আনন্দে নগরী উল্লাসিত হলেও জেলার বহু গ্রামে রক্তক্ষয়ী গণহত্যার স্থান এখনও অরক্ষিত।
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসের দিনে দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরের হাতে ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। শহীদদের মধ্যে ছিলেন রামচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রামকুমার রায়, পল্লি চিকিৎসক রামানন্দ রায় এবং তাদের পরিবার। আজও সেই স্থানের নিঃশব্দে ঘুরে আসে অতীতের করুণ স্মৃতি।
শুধু পেরুয়া নয়—সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে অসংখ্য বধ্যভূমি আজও বিস্মৃতির আঁধারে লিপ্ত। পিটিআই বধ্যভূমিতে শতাধিক নারী, শিশু ও মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন ও গণকবর দেওয়া হয়। ডলুরা বধ্যভূমিতে ৪৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি অবস্থিত, তবে সুনামগঞ্জের অন্যান্য ক্ষত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ পায়নি। আহসানমারা ফেরীঘাট বেরিগাঁওয়ের হত্যাযজ্ঞও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ, যেখানে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছিল।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজ দাবি করেন, এই অরক্ষিত বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হোক। নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের এ বর্বরতার ইতিহাস জানতে পারে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারে।
মুক্ত দিবসের এই দিনে বিজয়ের আনন্দ যেমন আমাদের গর্বে ভরে, তেমনি স্বজন হারানো শহীদদের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় আমাদের জাতীয় কর্তব্য—অতীতকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং তা সংরক্ষণ ও শ্রদ্ধার সাথে পেশ করা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: