মরমি কবি ও দার্শনিক হাছন রাজার প্রয়াণ দিবস আজ
Led Bottom Ad

মরমি কবি ও দার্শনিক হাছন রাজার প্রয়াণ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৬/১২/২০২৫ ১০:২৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আজ মরমি সাধক, লোককবি ও দার্শনিক হাছন রাজার ১০৩তম প্রয়াণ দিবস। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি দেহত্যাগ করেন। বাংলা লোকসংগীত, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবদর্শনের অনন্য সমন্বয় তাঁর গানে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


হাছন রাজা শুধু লোককবি নন; তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত দার্শনিক, বহুরূপী জীবনবোধের অনুসন্ধানী। তাঁর রচিত গানগুলোতে পাওয়া যায় ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিকতা, প্রকৃতি—সব মিলিয়ে এক গভীর মরমি আবহ। গবেষকদের মতে, বাংলার বহুধর্ম দর্শন, সুফিবাদ, বৈষ্ণব ভাবধারা, এবং গ্রামীণ পুরাণ—সবকিছুর মিলন ঘটেছিল হাছন রাজার সংগীতে।


সংস্কৃতিকর্মী ওবায়দুল হক মুন্সী বলেন, “হাছন রাজার গানে স্থানীয় শব্দভান্ডার, ব্রাত্যজনের ভাষা ও আঞ্চলিক টান স্পষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এ কারণেই তাঁর গান আজও সুনামগঞ্জসহ বরিশাল থেকে সিলেট পর্যন্ত গ্রামীণ সমাজে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।”


তিনি আরও জানান, হাছন রাজার সংগীতধারা অনুসরণ করে পরবর্তীতে এ অঞ্চলের মহাজন কামাল পাশা, দুর্বিন শাহ, শাহ আব্দুল করিম, ক্বারি আমির উদ্দিনসহ অনেকেই প্রেম, মানবতা ও প্রতিবাদের গান রচনা করেছেন, যা এখনো লোকসংগীত ঐতিহ্যের বড় অংশ।


হাছন রাজার জীবনের বড় অংশ কেটেছে সুনামগঞ্জের রামসী ও লক্ষ্ণীশ্রীতে। জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি জীবনের শেষভাগে গভীর আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাঁর রচিত গান, কবিতা ও দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে এখনও গবেষণা চলছে। সুনামগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হাছন রাজা জাদুঘর তাঁর স্মৃতি ধরে রেখেছে।


সুনামগঞ্জের কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বলেন,

“মরমি সাধক হাছন রাজার প্রয়াণ দিবসে আমরা কোনো কর্মসূচি করছি না। তবে আগামী ২১ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।”


বাংলার লোকসংগীত ও মরমি সাধনার চিরায়ত প্রতীক হাছন রাজার গান ও দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে মানবিকতা, প্রেম আর আত্মঅনুসন্ধানের পথে উজ্জীবিত করে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad