শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম খানসহ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় এক হৃদয়স্পর্শী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ঝিলমিল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সহচরিত্বের স্মৃতিমাখা এক অনুপম মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুম মিঞা। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও সহকারী শিক্ষক ক্যামেলিয়া চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পদোন্নতিজনিত বিদায়ী অতিথি শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা। তিনি বলেন,“শান্তিগঞ্জে দুই বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। আপনাদের সহযোগিতায় ‘শান্তিগঞ্জ মডেল’ এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিত। এটিকে ধরে রাখা এখন আপনাদের দায়িত্ব।”এই কথা বলতে বলতে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন,
“হয়তো আপনাদের সঙ্গে এভাবে আর দেখা নাও হতে পারে।”তার এই অনুভূতিময় বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চোখেও জল এসে যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী অতিথি ইন্সট্রাক্টর ইউপিইটিসি বিমল কুমার সরকার, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম খান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম।
এছাড়াও একে একে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকগণ—যাদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের সেবা, শ্রম, মানুষের মন গড়ার দায়িত্ব আর শিক্ষাঙ্গনের স্মৃতির পরম উজ্জ্বল আলো।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন —মোঃ আমিন উদ্দিন, অশোক কুমার দাস, মানিক লাল চক্রবর্তী, রাজিব রায়, সালেহ আহমদ, লিখিল মজুমদার, সুধা মজুমদার, সুরুজ আলী, রনজিৎ কুমার দাস, সঞ্জয় কুমার তালুকদার, রিতু কুমার দাস, বেনু মজুমদার, মুন্নী রানী দে, সুকৃতী বিশ্বাস, ফয়সল আহমদ, সুলতান মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সহকারী শিক্ষক মাওলানা মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী ইউএনও সুকান্ত সাহা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম খানসহ সকল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরীও বিদায়ী অতিথি হিসেবে মনোনীত ছিলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন—সমর চক্রবর্তী, মোঃ নজরুল ইসলাম, অনন্ত কুমার দাস, রফিকুল ইসলাম, আজমান আলী, আবুল কাশেম, বিধান চন্দ্র দাস, বিকাশ কৃষ্ণ দাস ও গৌরাঙ্গ কুমার দাস।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত ১৭ জন প্রধান শিক্ষক এবং ৩৬ জন সহকারী শিক্ষকসহ মোট ৫৩ জনকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মরহুম শিক্ষকদের পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সম্মাননা গ্রহণ করেন—যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় বেদনামিশ্রিত এক অনুপম আবেগ।
শিক্ষকরা চলে যান, কিন্তু রেখে যান তাদের জ্ঞান, ভালোবাসা ও আগামীর পথচলার আলো। সেই আলো নিয়েই শান্তিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এগিয়ে যাবে আরও দূরে—আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।
মইনুল হাসান আবির
মন্তব্য করুন: