সুনামগঞ্জে ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকি : ডাউকি ফল্টের প্রভাবে শতাধিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ
সক্রিয় ডাউকি ফল্টের কারণে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সুনামগঞ্জ। বিশেষ করে হাওর, জলাশয় ও পুকুর ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে ভাটি অঞ্চলটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও শহরের শতাধিক ভবন ধসে পড়তে পারে।
২২.১৭ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সুনামগঞ্জ পৌর শহর থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরেই অবস্থান ডাউকি ফল্টলাইন। টেকটনিক প্লেটের সীমানায় থাকায় ভারতের আসাম–মেঘালয় এবং বাংলাদেশের সিলেট–সুনামগঞ্জ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ। এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
২০১৯ সালে পৌরসভা শহরের কয়েকটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে ডিএস রোড এলাকার পৌর বিপণি মার্কেট অন্যতম। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ এই বাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও সেখানে অব্যাহতভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। এতে ভবনটির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠেছে পৌর শহরের অসংখ্য বহুতল ভবন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হয়নি বিল্ডিং কোড বা সেটব্যাকের নিয়ম। নির্মাণ পর্যায়ে যথাযথ তদারকি না থাকায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
২১ সেপ্টেম্বর সিলেট–সুনামগঞ্জ এলাকায় মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। ২১ নভেম্বর দেশজুড়ে পাঁচ মাত্রার বেশি ভূকম্পন এবং ২৭ নভেম্বর সিলেটে আবারও কম্পন অনুভূত হলে এ অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পৌর শহরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শাহিন বলেন, “সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি। এখনই সতর্ক না হলে বড় বিপদ ঘটতে পারে।”
একই এলাকার বাসিন্দা সামিয়ান রহমান বলেন,“অনেকেই বিল্ডিং কোড মানছেন না। অনুমোদন দিলেও সঠিক তদারকি হচ্ছে না—যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।”
পরিবেশ বিশ্লেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, “সুনামগঞ্জ ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে রয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে শতাধিক ভবন ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে।”
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কয়েস আহমদ বলেন,“শহরে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান,“বহুতল ভবনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা এই হাওরাঞ্চলে ভবন নির্মাণে নিয়ম মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সরানো এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: