সুনামগঞ্জে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ
Led Bottom Ad

শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ দ্বিগুণ

সুনামগঞ্জে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১২/১২/২০২৫ ১০:৩০:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জে শীতের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ৫৬ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি শিশুর ভর্তি হওয়ায় ডাক্তার ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১২৪ জন রোগী—যা শয্যার প্রায় দ্বিগুণ। ফলে অনেক শিশুকে বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শিশু রোগী নিয়ে আসা রাজিব আহমেদ বলেন, “গতকাল রাতে হঠাৎ ছেলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। শরীরে তীব্র জ্বরও ছিল। হাসপাতালে আসার পর বেড না পাওয়ায় মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে।”

রোগীর স্বজন আমেনা বেগম বলেন, “দুই দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। ডাক্তার বলেছেন নিউমোনিয়া হয়েছে। প্রতিদিনই দেখছি ঠান্ডাজনিত রোগে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, “প্রতি বছর শীতের সময় শিশু রোগী বাড়ে। তবুও বেড সংকটের সমাধান করা হয় না। রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়—এটা খুবই দুঃখজনক।”

সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. মনির হোসেন বলেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। ৫৬ শয্যার বিপরীতে বুধবার ১২৪ জন ভর্তি ছিল। আমরা ফ্লোরে ম্যাট্রেস বিছিয়ে রোগীদের রাখছি।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “হাওরাঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি টিনের হওয়ায় ঠান্ডা বাতাস সরাসরি ঢোকে। ফলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকায় চাপ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে।”

তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা এবং যথাযথ পরিচর্যা জরুরি। একটু অবহেলায় সর্দি-জ্বর থেকে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad