তাহিরপুরে প্রাণ ফিরেছে হাওরে : বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা
Led Bottom Ad

তাহিরপুরে প্রাণ ফিরেছে হাওরে : বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

শামছুল আলম আখঞ্জী,তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৩/১২/২০২৫ ২০:১০:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হাওরের শান্ত আকাশের নীচে শুরু হয়েছে এক নতুন জীবনের প্রস্তুতি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বোরো ধানের চারা রোপণে। এক দিকে হাওরের জমি থেকে পানি নামছে, অন্য দিকে মাঠজুড়ে নারীর হাত, শিশুর ছোট ছোট হাত, আর কৃষকের ক্লান্ত কিন্তু দৃঢ় নজর—সব মিলিয়ে যেন শীতের সকালেও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষিক মিলন ঘটছে।


শীতের ভোরে দেখা যায় কৃষকরা জমিতে পানি ধরছেন, চারা বাঁধছেন, আর রোপণের কাজ করছেন। নারী ও শিশুদের কণ্ঠস্বর, চারা বাঁধার টানাপোড়েন, সব মিলিয়ে জমি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। হাওরের এই ব্যস্ততা এমন এক দৃশ্য তুলে ধরে, যেখানে প্রতিটি চারা নতুন আশা বুনছে। হাওরে কাজের তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাজারের রঙিন উৎসবও যেন ক্ষণিকের জন্য থেমে গেছে।


উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ২৩টি ছোট-বড় হাওরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ধান রোপণ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা চারা রোপণের কাজ করছেন, তাদের চোখে দৃঢ় আশা আর পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট।


ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, চলতি বছর তিনি ৩০ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করছেন। তিনি আশা করছেন কমপক্ষে ৬শ’ মণ ধান ফলবে, যা তাঁর পরিবারের জীবনে নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনবে। আরেক কৃষক সেলিম আখন্জি জানালেন, শ্রমিক মজুরি বেড়ে ৬০০–৭০০ টাকা হলেও, তিনি ও তাঁর পরিবারের কঠোর পরিশ্রমে জমি চারা রোপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “যথাসময়ে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ফলন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।”


শীতের হাওরে এই দৃশ্য যেন বার্তা দিচ্ছে—মানুষের পরিশ্রম আর ধৈর্য কখনো বৃথা যায় না। প্রতিটি চারা বুনছে নতুন আশার বীজ, এবং কৃষকের হাওরের প্রতিটি ধনক্ষেত যেন জীবনের সংগ্রামের মধুর প্রতিফলন।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad