তাহিরপুরে ৪৩ কোটি টাকার সেতুর কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ
Led Bottom Ad

জনদুর্ভোগ চরমে

তাহিরপুরে ৪৩ কোটি টাকার সেতুর কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

১৫/১২/২০২৫ ১২:২৪:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ১নং শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের ড্যাম্পের বাজার এলাকায় পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি এলাকার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলেও কাজ থমকে যাওয়ায় হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

এ সেতুর আশপাশে বাজারগাঁও, ড্যাম্পের বাজার, দুধের আউটা ও বালিয়াঘাটা গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৩২ ফুট। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের শুরুতে এসে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও হঠাৎ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ফলে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি বর্ষায় ধসে খাল-বিলে ভরাট হচ্ছে এবং অসমাপ্ত কাঠামোর রডে মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমেও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মোটরবাইক আরোহী ও পথচারীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী বলেন, “সংযোগ সড়কের মাটি ঢলে পড়ায় ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। দুর্ঘটনা লেগেই আছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা জরুরি।”

কাউকান্দি গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আলী বাদশা বলেন, “দেড় বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

বালিয়াঘাটা গ্রামের কলেজছাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎবাতিসহ সেতুটি দৃষ্টিনন্দন হবে এবং মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।”

১নং শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী হায়দার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতু সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের বড় উপকার হবে।”

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ চালুর ব্যবস্থা করা হবে।”

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “সেতুর মূল কাজ প্রায় শেষ। তবে সংযোগ সড়কের কাজ বাকি। ঠিকাদার বিলের কথা বলছেন, কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।”

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “সেতুটির কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমরা জেনেছি। কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি শিগগিরই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad