সিলেট রেল স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া সেই স্বপ্নার বিয়ে
Led Bottom Ad

এক মানবিক সাফল্যের গল্প

সিলেট রেল স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া সেই স্বপ্নার বিয়ে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৪/০৫/২০২৬ ১১:৪১:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কুড়িয়ে পাওয়া সেই নাম-পরিচয়হীন শিশু স্বপ্না আক্তার জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রিত থাকার পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে তাঁর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, শৈশবে মা-বাবাকে হারানো অসহায় এই শিশুটিকে আশ্রয় দিয়েছিল সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র। সেখানেই লালন-পালন ও পড়াশোনা শেষে ২০২৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় স্বপ্নার সম্মতিতেই পুনর্বাসন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এই বিয়ের আয়োজন করে। পাত্র সিলেটেরই একজন বাসিন্দা, যিনি পেশায় ইলেকট্রিক ঠিকাদার। বিয়ের এই মানবিক আয়োজনে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বপ্নার ভবিষ্যতের জন্য ২ লাখ টাকার এফডিআর এবং প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় আয়োজিত এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায় এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সিসিক প্রশাসক নবদম্পতির সুখী জীবন কামনা করে বলেন, একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে সুশিক্ষায় বড় করে আজ তাঁর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন জানান, অভিভাবকহীন স্বপ্নার নিরাপত্তা ও সুন্দর জীবনের কথা চিন্তা করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনে কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বপ্নার এই নতুন যাত্রা একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। রেল স্টেশনের সেই অসহায় শিশুটির জীবনকাহিনি আজ পরিণত হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী সাফল্যের গল্পে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad