সুনামগঞ্জে তবলা কর্মশালা ও গুণীজন সম্মাননা
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী এক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক তবলা কর্মশালা। ১৪ মে বৃহস্পতিবার আনন্দঘন পরিবেশে সুর ও তালের এই মিলনমেলা বসে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিশু সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় সহযোগিতা করে বন্ধন থিয়েটার ও নৃত্যাঙ্গন সুনামগঞ্জ।
সকাল থেকেই তবলাপ্রেমী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ। অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষণার্থী এই কর্মশালায় অংশ নেন। দিনব্যাপী সেশনে তবলার আদ্যোপান্ত ও বিভিন্ন অলংকার নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেন প্রথিতযশা প্রশিক্ষক অরিজিৎ ঘোষ চৌধুরী। প্রশিক্ষণ শেষে বিকেলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সকালে অ্যাডভোকেট অলক ঘোষ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুদ্ধ সংগীত চর্চায় তবলার ভূমিকা অপরিসীম। এ ধরনের কর্মশালা নতুন প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে সৃজনশীল পথে ধাবিত করবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়,দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শেরগুল আহমেদ, আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজা ফেরদৌস লিপন। এছাড়াও অমিয়াংশু চৌধুরী অলক, মুনাজ্জির হোসেন সুজন, প্রবীণ সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন ও বুরহান উদ্দিনসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন সামির পল্লব।
এদিন কেবল প্রশিক্ষণই নয়, তবলার সাধনায় নিবেদিত প্রাণ চারজন গুণীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তবলার প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উস্তাদ অঞ্জন চৌধুরী, বাবুল আচার্য, আদিত্য চক্রবর্তী এবং অমিত বর্মনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে আয়োজক সংস্থা।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা জানান, সুনামগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের সঠিক ব্যাকরণ পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এই জনপদে শাস্ত্রীয় শিল্পের ভিত্তি এখনো অত্যন্ত মজবুত।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: