দোয়ারাবাজারে বৃটিশ–বাংলাবাজার সড়ক সংস্কারে চরম অনিয়মের অভিযোগ
Led Bottom Ad

স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

দোয়ারাবাজারে বৃটিশ–বাংলাবাজার সড়ক সংস্কারে চরম অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

১৫/১২/২০২৫ ১৩:১০:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বৃটিশ–বাংলাবাজার সড়ক সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূত কাজ চলায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাবাজার থেকে পাইকপাড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই মানহীন সামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজের অভিযোগ উঠে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক সংস্কারের নামে নিম্নমানের বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নির্মাণে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।

শুক্রবার স্থানীয়রা একাধিকবার অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ জানালেও সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। শনিবারও একইভাবে কাজ চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিয়মের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

এদিকে একই সড়কে উপজেলা পরিষদের আওতায় দ্বিতীয় দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃটিশ থেকে পাইকপাড়া পর্যন্ত আরেকটি সংস্কার কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী খানাখন্দে রড, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করার কথা থাকলেও বাস্তবে রড ছাড়া ঢালাই, সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়া, অপরিচ্ছন্ন মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার এবং কোথাও বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে ভরাট করে ঢালাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ওই কাজও বন্ধ করে দেন।

খবর পেয়ে ঠিকাদার ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কাজ পুনরায় শুরু করলেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃটিশ–বাংলাবাজার সড়কটি দোয়ারাবাজার উপজেলার সর্ববৃহৎ সবজি ভান্ডারখ্যাত বাংলাবাজার, মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের বাঁশতলা পর্যটন এলাকা এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দুই দফা বাজেটে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার হলে প্রায় এক যুগের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে উল্টো দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালেহ আহমদ বলেন, “কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়ম চলছে। আমরা বারবার বলেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দিতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার ও তার লোকজন আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঠিকাদারের প্রভাব ও ক্ষমতার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজন মারমুখী আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলদের যথাযথ তদারকির অভাবেই ঠিকাদার বারবার নিয়মবহির্ভূত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad