বাবার বাড়ির ঘরে মিলল নিথর দেহ
প্রেমিকের বিয়ের খবরে বড়লেখার ময়না'র মৃত্যু
শেষ পর্যন্ত অভিমান, না কি ভাঙা হৃদয়ের অসহনীয় কষ্ট,তার উত্তর মিলবে তদন্তে। তবে স্বজনদের ভাষ্য, ভালোবাসার মানুষের অন্যত্র বিয়ের খবর যেন ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ময়না গঞ্জুকে (৩৬)। সেই কষ্টই হয়তো শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল একটি জীবন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগান এলাকা থেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে ময়নাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো চা বাগানজুড়ে নেমে আসে শোক আর চাপা কান্নার আবহ।
ময়না কুলাউড়ার বরমচাল চা বাগানের বাসিন্দা সুকিন্দর গঞ্জুর স্ত্রী। পারিবারিক অশান্তির কারণে প্রায় এক বছর আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এরপর বাবার বাড়িতেই কাটছিল তাঁর দিনগুলো।
স্বজনদের দাবি, এই সময়েই বরমচাল এলাকার বিশ্বজিৎ গঞ্জু নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক নিয়েই নতুন করে স্বপ্ন দেখছিলেন ময়না। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বজিতের অন্যত্র বিয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি একেবারে বদলে যান। চুপচাপ হয়ে পড়েন, কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে ময়নাকে ঘিরে চা বাগান এলাকায় এখন শুধু কান্না আর আফসোস। স্থানীয় অনেকেই বলছেন, “মেয়েটা অনেক কষ্ট নিয়ে বাঁচছিল।”
হিফজুর রহমান / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: