শাল্লায় বাঁধ নির্মাণ উদ্বোধন: অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা থেকে বোরো ধান রক্ষায় ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা–২০২৩ অনুযায়ী গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কাজের উদ্বোধন করা হয়।
শাল্লা উপজেলায় ভান্ডাবিল হাওরের ২৭ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) আওতাধীন বাঁধ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস। সকাল ১১টায় তিনি ফিতা কেটে কাজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির ভেতর গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে হবে। বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। কৃষকের ফসল রক্ষায় যাতে বাঁধগুলো কার্যকরভাবে নির্মিত হয়, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ওবায়দুল হক জানান, ইতিমধ্যে কয়েকটি বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে। হাওর থেকে পানি পুরোপুরি সরে গেলে বাকি সব পিআইসির আওতায় পুরোদমে কাজ শুরু হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি কালাবাঁশী দাস বলেন, মনিটরিং কমিটির নির্দেশনা মেনে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ও সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আগাম বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় একযোগে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী জেলায় মোট ৫১০টি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।
এর মধ্যে শাল্লা উপজেলায় পাউবো অনুমোদিত ৬২টি প্রকল্পে ৪৩ দশমিক ১৭৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শতভাগ স্কিম প্রণয়ন সম্পন্ন হলে প্রকল্প ও বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: