তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে পানি নিষ্কাশনে ধীরগতি, বিপাকে বোরো চাষিরা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন করা হলেও সুইস গেইট পুরোপুরি খোলা না থাকায় ধীরগতিতে পানি নামছে। ফলে হাওরের বিভিন্ন স্থানে এখনো জমে রয়েছে পানি। এতে করে ভাটির এলাকার কৃষকরা সময়মতো বোরো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সরেজমিনে মাটিয়ান হাওর ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার জমিতে এখনো পানি জমে রয়েছে। জমি শুকিয়ে না যাওয়ায় চাষিরা চারা রোপণের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সুইস গেইট আংশিক খোলা থাকায় পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক গতিতে হচ্ছে না।
স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, ধানচাষিদের সুবিধার্থে শুরুতে এক সপ্তাহের জন্য সুইস গেইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১৫ দিন পার হলেও গেইট পুরোপুরি খোলা হয়নি। এতে করে পানি নামছে খুব ধীরে, যার ভোগান্তিতে পড়েছেন ভাটির এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক তারিকুল ইসলাম বলেন, “সুইস গেইট ঠিকভাবে না খোলায় হাওরের পানি জমে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধানচারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত গেইট না খুললে ইরি ধানের চারার বয়স বেড়ে গিয়ে গাইড হয়ে যাবে। তখন এসব চারা রোপণ করেও ভালো ফলনের আশা করা যাবে না। আগের মতো শাইল বোরো চাষের সুযোগ এখন আর নেই।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উঁচু ও ভাটির জমির পার্থক্যের কারণে ভিন্নধর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। উঁচু এলাকার জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় সেখানে পানির অভাবে চারা রোপণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভাটির জমিগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় সেসব কৃষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চারা রোপণ করতে পারছেন না।
এদিকে, পানি নিষ্কাশন ব্যাহত থাকায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণেও মাটির সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পানি পুরোপুরি নামতে পারলে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ সহজ হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও দ্রুততর হবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো কৃষক ভোগান্তিতে না পড়েন।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: