শাল্লায় বোরো ধানের চারা রোপণ, ডিএপি সার সংকটে কৃষকরা চরম উদ্বেগে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ সময় চারা রোপণের সঙ্গে ব্যবহার হয় ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার, যা ধানের শিকড় গঠনে ও বৃদ্ধি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ডিএপি সার না পাওয়ায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
শাল্লার বড় কৃষক ছত্তার মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকায় বোর চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এই সময়ে ডিএপি সার না দিলে যে জমিতে ২৫ মণ ধান হবে, সেখানে হয়তো ১০ মণও হবে না। এই সপ্তাহে সার না পেলে ক্ষতির মুখে পড়ব। আমার ৫০ বস্তা ডিএপি সারের প্রয়োজন, তবে আমি মাত্র পাঁচ বস্তা পেয়েছি।”
স্থানীয় সারের ডিলাররা জানিয়েছেন, সরবরাহের সমস্যা রয়েছে। পান্না সরকার বলেন, “ডিএপি সার যে পাওয়া যাচ্ছে না, তা কৃষি অফিসারকেও জানিয়েছি।” অন্যদিকে রঞ্জিত বৈষ্ণব জানান, কিছুদিনের মধ্যে চেষ্টা করে সারের যোগান দিতে পারবেন। বাবলু রায়ের ম্যানেজার রূপক দাস বলেন, ডিসেম্বর মাসের জন্য ১৮শ’ বস্তা ডিএপি সার পেয়েছিলেন, তবে দোকানে আনার পর তা বিক্রি হয়ে গেছে এবং আর সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “কৃষি অফিসারকে সারের বিষয়ে কঠোর মনিটরিং রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়ার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ডিসেম্বর মাসে সুনামগঞ্জ জেলায় ডিএপি সারসহ অন্যান্য সারের চাহিদা ও উত্তোলনের সংখ্যা নিম্নরূপ: ইউরিয়া সার: চাহিদা ৮,৬৬৩ টন, উত্তোলন ১,৭৪৩ টন, টিএসপি: চাহিদা ২,০৩৮ টন, উত্তোলন ৯৫৪ টন, এমওপি: চাহিদা ৩,০৪৫ টন, উত্তোলন ১,০০০ টন, ডিএপি: চাহিদা ৪,৫৫৫ টন, উত্তোলন ২,১৪৭ টন।
তিনি আরও বলেন, সারের সরবরাহের অসামঞ্জস্য সমাধানের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোন এলাকায় সারের ঘাটতি হলে অন্য ইউনিয়ন থেকে তা যোগান দেওয়া যায়। শাল্লার ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করার জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: