কাজ না করেই ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ধর্মপাশায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টিআর-কাবিটা ও পিআইসি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দপ্তরে দালালি ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির আওতায় ধর্মপাশার মাটিকাটা জেলা সড়ক থেকে আনজুল হকের বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তায় কোনো মাটি না কেটেই কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সাকল্য অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। প্রকল্পের সুবিধাভোগী আনজুল হক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বাড়ির রাস্তায় প্রকল্প আছে তা আমরা জানি না। কোনো কাজ হয়নি, অথচ শুনছি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।" এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ইউপি সদস্য আবু চাঁন মিয়াকে রাখা হলেও তিনি দাবি করেছেন, তাকে চাপ দিয়ে এই পদ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলফিকার আলী ভুট্টোর ভাগ্যের চাকা নাটকীয়ভাবে ঘুরে যায়। প্রশাসনের সাথে দালালি, থানায় গ্রেপ্তার বাণিজ্য, জমি খারিজের তদবির এবং আওয়ামী নেতাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের একাধিক অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক জানিয়েছেন, ভুট্টোর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: