নারী শিক্ষক নেই শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, বিপাকে শিক্ষার্থীরা
মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো নারী শিক্ষক না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ২০২৩ সাল থেকে কর্মরত ১৩ জন শিক্ষকের সবাই পুরুষ। এর ফলে বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত লজ্জা ও সংকোচের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, পিরিয়ড বা হঠাৎ অসুস্থতার মতো জরুরি সময়ে পুরুষ শিক্ষকদের কাছে সাহায্য চাইতে তারা প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করে। স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ বা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো কোনো নারী অভিভাবক না থাকায় অনেক সময় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ ছাড়া নারী প্রশিক্ষকের অভাবে গার্লস গাইডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোও প্রায় বন্ধের পথে। অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে একজনও নারী শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
শিক্ষক সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ২৫ শতাংশ পাসের হার এবং ৪১ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার সাফল্য থাকলেও অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো কাটছে না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহির আলী এবং সিনিয়র শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, পাঠদান চললেও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষকের অভাব প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ আসেনি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: