চুক্তি বাতিল ঘিরে উত্তেজনা
টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে চার জলমহালের খাস কালেকশন
নীতিমালা অমান্য করে সুনামগঞ্জ জেলার স্পর্শকাতর টাঙ্গুয়ার হাওরের নিকটবর্তী চারটি জলমহাল গত বছর (২০২৪ ইংরেজি/১৪৩২ বাংলা) খাস কালেকশন দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব জলমহাল থেকে আদায়কৃত অর্থ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে।
সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসব খাস কালেকশন চুক্তি বাতিল করলে দখলদার পক্ষের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। বুধবার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী চাপটান হাওরের ভাঙার খাল, বলদা গ্রুপ জলমহালের একটি অংশ, পানিয়ার ডোবা জলাশয় ও দাঁতভাঙা জলমহাল তৎকালীন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম নিয়ম বহির্ভূতভাবে খাস কালেকশন দেন।
এই জলমহালগুলো দেওয়া হয়— দাঁতভাঙা জলমহাল লতিফপুর গ্রামের তফুর আলমকে, চাপটান হাওরের ভাঙার খাল ধরুন্দ বাদাঘাটের নাজির হোসেনকে, বলদা গ্রুপ জলমাল টাকাটুকিয়ার মকলিছ মিয়াকে এবং পানিয়ার ডোবা জলমহাল জয়নগরের আরিফ আহমদকে।
এসিল্যান্ড সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব খাস কালেকশন বাতিল করা হয়েছে। তবে খাস কালেকশন বাতিলের চিঠি গ্রহীতারা গ্রহণ না করে উল্টো হুমকি-ধমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রোকন উদ্দিন মঙ্গলবার রাতে এসিল্যান্ডের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে হেয় করে পোস্ট দেওয়া হয়।
তাহিরপুর উপজেলার ডিহিবাটী ও সদর তহশিল অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আশীষ চক্রবর্তী ও রুহুল আমীন জানান, চারটি জলমহালই নিয়মনীতি ভঙ্গ করে খাস কালেকশনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এসব জলমহাল থেকে কোনো রাজস্ব আদায় হয়েছে কি না, তা তারা জানেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকন উদ্দিন বলেন, দাঁতভাঙা জলমহালটি গ্রামের এক ব্যক্তিকে খাস কালেকশনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। কেন এটি বাতিল হলো—সে বিষয়ে জানতে তিনি এসিল্যান্ডের অফিসে গিয়েছিলেন। তবে কোনো অসদাচরণ করেননি বলে তার দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস এসিল্যান্ডকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, এসিল্যান্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে বিষয়টি সমাধান হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর আওতায় জারি করা “টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ” অনুযায়ী, এ এলাকায় নীতিমালা লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: