ফসল রক্ষার বাঁধ প্রকল্পে ফের বিলম্ব, উদ্বিগ্ন হাওরপাড়ের কৃষক
Led Bottom Ad

ফসল রক্ষার বাঁধ প্রকল্পে ফের বিলম্ব, উদ্বিগ্ন হাওরপাড়ের কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

০১/০১/২০২৬ ১২:৫৪:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বোরো মৌসুমের ফসল সুরক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুতে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর একই ধরনের দেরির পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ ও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাবিটা স্কিমের আওতায় চলতি অর্থবছরে ছাতকে ২৭টি বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত নামমাত্র উদ্বোধন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।

পাউবো সূত্র জানায়, হাওরাঞ্চলে পানি থাকায় সার্ভে ও মেজারমেন্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে পানির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের সম্পর্ক কী, কয়টি প্রকল্প এলাকায় পানি রয়েছে এবং অন্য প্রকল্পগুলোর কাজ কেন শুরু হয়নি—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।

ছাতকের ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০টি পিআইসি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ১৫টি প্রকল্পের গণশুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্প এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই ধরনের ২৮টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করে পরবর্তী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এবারও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী মৌসুমে এমন বিলম্বে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সরেজমিনে নাইন্দার, দেখার ও চাউলির হাওরসংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা ইতোমধ্যে বোরো ধানের চারা তোলা ও রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত দুই বছর বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় বেশিরভাগ হাওরে ফসল রক্ষা পেয়েছে। তবে সময়মতো বাঁধ মেরামত না হলে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন তারা।

নাইন্দার হাওরের কৃষক মনির উদ্দিন বলেন, “বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম না থাকলে আমাদের উদ্বেগ থাকত না। পানির কারণে যদি কাজই করা না যায়, তাহলে উদ্বোধন করা হলো কেন? পিআইসি তো বাঁধের পাড়ে দাঁড়িয়ে গঠন করা হয় না। এখনো দুটি প্রকল্প ঝুলে আছে, অনেকগুলোর কাজ শুরুই হয়নি।”

জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামের কৃষক ফখর উদ্দিন বলেন, “বোরো ফসলই আমাদের প্রধান ভরসা। টেকসই ও সময়মতো বাঁধ নির্মাণ হলে শুধু ফসল নয়, আমাদের অস্তিত্বও রক্ষা পায়। কিন্তু দেরিতে কাজ শুরু করে তাড়াহুড়ো করে শেষ করার কারণেই প্রতিবছর বিপদের ঝুঁকি থেকেই যায়।”

এ বিষয়ে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দুজ্জামান নাহিদ বলেন, “সার্ভে ও মেজারমেন্ট কাজ বিলম্ব হওয়ায় পিআইসি গঠন দেরি হয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই সব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ডিপ্লোমেসি চাকমা জানান, “সার্ভে কাজ বিলম্বিত হওয়ায় প্রকল্প শুরুতে দেরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad