দুর্যোগ আর উন্নয়নের দোলাচলে ২০২৫-এর সিলেট
Led Bottom Ad

দুর্যোগ আর উন্নয়নের দোলাচলে ২০২৫-এর সিলেট

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

০১/০১/২০২৬ ১৮:৫২:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

২০২৫ সালে সিলেট ছিল একদিকে দুর্যোগের মুখোমুখি, অন্যদিকে উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশায় আলোড়িত। বছরের শুরুতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয় এই অঞ্চলের জনজীবন। আবার বছরের শেষভাগে হাওরাঞ্চলের কৃষিতে বড় প্রকল্পের ঘোষণা নতুন আশার আলো দেখায়। দুটি ঘটনাই সিলেটের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গভীর ছাপ ফেলেছে।


ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেট

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট মহানগর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয়রা। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে গেলে নিম্নাঞ্চল দ্রুত পানির নিচে চলে যায়।


বন্যায় সিলেট নগরীর বহু এলাকা দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ ছিল। বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাওর ও চর এলাকার মানুষ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পানির নিচে তলিয়ে যায় বোরো ধানের জমি। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, এই বন্যায় সিলেট জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হন কয়েক লাখ মানুষ।


বন্যা পরবর্তী সময়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হলেও ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে অনেকের। এই দুর্যোগ আবারও সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।


হাওরের কৃষিতে বড় প্রকল্প, নতুন প্রত্যাশা

বন্যার ক্ষত না শুকোতেই ২০২৫ সালের শেষদিকে হাওরাঞ্চলের কৃষিতে বড় ধরনের সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা সিলেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের হাওর এলাকায় স্থায়ী গোপাট, থ্রেসিং ফ্লোর ও সানিং ফ্লোর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।


প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো হাওরাঞ্চলে ধান কাটা ও পরিবহনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো। স্থায়ী গোপাট নির্মাণ হলে বর্ষার আগেই উৎপাদিত ধান দ্রুত লোকালয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেচ সুবিধা বাড়িয়ে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।


হাওরপাড়ের কৃষকদের কাছে এই প্রকল্প নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন, তার একটি টেকসই সমাধানের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


দুর্যোগ আর উন্নয়নের মাঝখানে সিলেট

২০২৫ সাল সিলেটবাসীর জন্য একদিকে ছিল দুর্যোগের স্মৃতি, অন্যদিকে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা। বন্যা দেখিয়ে দিয়েছে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ঝুঁকি কতটা গভীর। আর হাওরের কৃষিতে বড় প্রকল্পের উদ্যোগ ইঙ্গিত দিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলই হতে পারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভরকেন্দ্র।


২০২৫ তাই সিলেটের ইতিহাসে থেকে যাবে—একটি সতর্কতার বছর, একই সঙ্গে সম্ভাবনার বছর হিসেবেও।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad