সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ সংস্কারে ধীরগতি, বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা
প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বোরো ফসল রক্ষায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণকাজ এবার কমপক্ষে ১০ দিন পিছিয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই বাঁধের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেলেও চলতি মৌসুমে কাজ চলছে ঢিমেতালে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে বিলম্ব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের রদবদলের কারণে বাঁধের কাজে গতি আসেনি।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলার মোট ৭০১টি বাঁধ প্রকল্পের মধ্যে ৬১৪টির পিআইসি গঠন করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এ পর্যন্ত মাত্র ১২১টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ১৭টির মধ্যে ১৬টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৩টির মধ্যে ১৯টি, জামালগঞ্জে ৪১টির সবকটি, তাহিরপুরে ৮৫টির মধ্যে ৬৪টি, ধর্মপাশায় ৯৩টির সবকটি, মধ্যনগরে ৪১টির সবকটি, শান্তিগঞ্জে ৬৩টির মধ্যে ৪৩টি, জগন্নাথপুরে ৩৭টির সবকটি, দিরাইয়ে ১৩২টির মধ্যে ১০৭টি, শাল্লায় ১২৬টির মধ্যে ১১৬টি, ছাতকে ২৫টির মধ্যে ২৪টি এবং দোয়ারাবাজারে ১৭টির মধ্যে ১৫টি প্রকল্পের পিআইসি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত বছর এই সময় অনেক বাঁধে ৩০-৪০ শতাংশ কাজ শেষ ছিল। এবার সেখানে এখনো মাটি পড়েনি। দেরিতে কাজ শুরু হলে বাঁধ দুর্বল হয়, যা অকাল বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।”
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল মতিন খান বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে দ্রুত সব পিআইসি গঠন করে কাজ শুরু করা হচ্ছে।”
জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি চিত্ত রঞ্জন তালুকদার বলেন, “নির্বাচনের বছরে বাঁধের কাজ নিয়ে ‘ধান্দা-ফিকির’ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
কৃষক সংগঠক সিরাজুল হক অলি বলেন, “কাজ পিছিয়েছে ঠিক, তবে এখনই যদি গুরুত্ব দিয়ে শুরু করা যায়, বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।”
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ৯৫টি হাওরে ৭০১টি বাঁধ অংশে সংস্কার ও নির্মাণকাজ হবে। এতে ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ছাড় হয়েছে ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “পিআইসি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যেই সব পিআইসি সম্পন্ন করে বাঁধের কাজ জোরেশোরে শুরু করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে। এতে প্রায় ৪ লাখ কৃষক পরিবার অংশ নিচ্ছেন এবং উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান, যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: