সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জমিয়তের সমর্থন ও নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ–৩ (শান্তিগঞ্জ–জগন্নাথপুর) আসনে জোটগত রাজনীতি ও নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কোনো প্রার্থী না থাকলেও জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জনাব কয়সর এম আহমদ মনোনীত হয়েছেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত শরিক দল জমিয়তের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী জনাব কয়সর এম আহমদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা পরামর্শ হয়নি। অথচ এই আসনের প্রতিটি গ্রামে জমিয়তের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে জোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জমিয়তের রাজনৈতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী—উভয়েই ছিলেন জমিয়তের নেতা। ফলে আসনটিকে অনেকেই ঐতিহাসিকভাবে জোটের আসন হিসেবেই বিবেচনা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনাব কয়সর এম আহমদ এই আসনের তুলনামূলক নতুন নেতা। বিএনপির অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁর মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এই আসনে বিএনপি ও জমিয়তের মধ্যে সমঝোতার রাজনীতি কার্যকর ছিল। জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জমিয়ত সমর্থন দিয়েছে। এই সমঝোতার ফলেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জমিয়তের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির নেতা ফারুক আহমদ।
এবারও বিএনপি ও জমিয়তের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। জমিয়তের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন, এই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর—এই দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জমিয়ত থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে এবং বিএনপি তাঁদের সমর্থন দেবে।
এ বিষয়ে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সারাদেশে মাত্র চারটি আসনের বিনিময়ে জমিয়ত বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। তাই এই ত্যাগের রাজনৈতিক প্রতিফল ভবিষ্যতে যেন দলীয়ভাবে ফিরে আসে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তাঁরা।
যুব জমিয়তের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রেজওয়ান আহমদ মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনে জোটের মনোনীত জমিয়তের প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। আর স্থানীয় নির্বাচন তথা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জমিয়ত সমর্থন দিয়েছে। এভাবে উভয় দলের সমঝোতায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ততকালীন জমিয়তের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী,আর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির জনাব ফারুক আহমদ। এবারো বিএনপির সাথে জমিয়তের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। আমরা চাই জমিয়ত বিএনপির এমন একটি চুক্তি সমঝোতা হোক যে, আগামি উপজেলা নির্বাচনে শান্তিগঞ্জ জগন্নাথপুর দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়া হবে জমিয়ত থেকে। এতে বিএনপি জমিয়তের প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিয়ে সাথে থাকবেন। এধরণের সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে জমিয়তের সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: