শাল্লায় ১২৪টি পিআইসির কাজ এখনো শুরুই হয়নি
Led Bottom Ad

ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা

শাল্লায় ১২৪টি পিআইসির কাজ এখনো শুরুই হয়নি

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

০৫/০১/২০২৬ ১২:৫১:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য গঠিত ১২৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২৪টির কাজ শুরুই হয়নি। এমন তথ্যই জানিয়েছেন খোদ পিআইসির সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর একটি পিআইসির লোকদেখানো উদ্বোধন এবং ৪ জানুয়ারি বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের ৪০ নম্বর পিআইসি কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়া বাকি প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি বেশ কয়েকটি প্রকল্পে এখনও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) ওবাইদুল রহমান দাবি করেন, ১০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কয়েকটি পিআইসির কমিটি গঠন এখনও বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, “বরাম হাওরের পাঠাখাউরি (ক্লোজার) প্রকল্প থেকে সব প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে।”

তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসি নেতারা। বরাম হাওরের ৪০ নম্বর পিআইসির সভাপতি শৈলেন দাস বলেন, “৪ জানুয়ারি রোববার থেকেই আমাদের প্রকল্পে বাঁধে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্প ছাড়া বরাম হাওরের অন্য কোনো প্রকল্পে এখনও কাজ শুরু হয়নি।”

একই কথা জানান প্রকল্পের সদস্য সচিব লোকেশ দাস। তিনি বলেন, “৪০ নম্বর পিআইসির আওতায় ৬০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য ৩৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই মেশিনে ১২৪ নম্বর পিআইসির কাজও করার কথা রয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, বরাম হাওরের ১০টি পিআইসির মধ্যে একটিতেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। তারা এসওর বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, গত ১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন হওয়া ভান্ডাবিল হাওর উপ-প্রকল্পের ২৭ নম্বর পিআইসির কাজও অসমাপ্ত রেখে অপারগতা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রকল্প সভাপতি।

এ বিষয়ে ২৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি কালাবাসী দাস বলেন, “শুরুর দিকে যতটুকু বাঁধে মাটি কাটার কথা বলা হয়েছিল, এখন তার চেয়ে কয়েকশ মিটার বেশি কাজ করতে বলা হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

তবে এসও ওবাইদুল রহমান বলেন, “২৭ নম্বর পিআইসি মাটি কাটার সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছে। তারা যতটুকু কাজ করবে, ততটুকুর বিল পাবে। বাকি অংশের কাজ কে করবে, তা উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।”

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের শুরুতেই পিআইসি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের টানাপোড়েনে কৃষক ও সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাঁধ সংস্কারের ধীরগতিতে আগাম বন্যার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে শাল্লা উপজেলার ৬টি হাওরে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য ২৯ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে মোট ১২৬টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad