অতিরিক্ত দামে সার কিনে বিপাকে কৃষক
জামালগঞ্জে বোরো মৌসুমে ডিএপি সারের তীব্র সংকট
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার কৃষিনির্ভর উপজেলা জামালগঞ্জে বোরো মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে ডিএপি সারের তীব্র সংকট। সংসার চালাতে বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ এখন দুশ্চিন্তায়। প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে উপজেলার উৎপাদিত ধান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের খাদ্য সরবরাহেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে ধান ফলানো কৃষকেরা এবার ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে সারের সংকটে পড়েছেন। ডিএপি সার না থাকায় জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এমওপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৩৩৮ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার। ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৯৩টি ছোট-বড় মৌজা রয়েছে। উপজেলার মোট জমির পরিমাণ ২৭ হাজার ৯৭৩ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদি জমি ২৭ হাজার ৬৪৩ হেক্টর। এখানে ছোট-বড় হাওরের সংখ্যা ১৬টি। এর মধ্যে পাগনা ও হালি হাওর সবচেয়ে বড়।
হালির হাওরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “সার ডিলাররা সিন্ডিকেট করে আমাদের কাবু করে রেখেছে। ডিএপি সার পাওয়া যায় না, কিন্তু বেশি দাম দিলে ঠিকই মেলে। সব সারেরই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম প্রশাসনের চোখে পড়ে না কেন?”
পাগনা হাওরের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, “বোরো ধানই আমাদের একমাত্র ফসল। প্রতি বছর ধান রোপণের সময়ই সংকট দেখা দেয়। এবার টাকা দিয়েও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের বরাদ্দের সার কোথায় যাচ্ছে—এ প্রশ্নের উত্তর চাই।”
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. আব্দুর রব বলেন, “বোরো মৌসুমে সারের সংকট কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছে। দ্রুত মনিটরিং করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, “অন্যান্য সারের তুলনায় ডিএপি সারের চাহিদা বেশি। ডিএপি ব্যবহার করলে প্রায় ৪০ শতাংশ ইউরিয়া কম লাগে। নতুন বরাদ্দ এসেছে, দু-একদিনের মধ্যেই সংকট কেটে যাবে।”
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এমনকি ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: