তীব্র শীতে কাবু সুনামগঞ্জ, কম্বলের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার
Led Bottom Ad

তীব্র শীতে কাবু সুনামগঞ্জ, কম্বলের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৭/০১/২০২৬ ১৪:১১:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘বেড়া, ছাল, দরজা-জানালা সবদিক দিয়া ঠান্ডা হাওয়া আইয়ে। ঘরো থাকনের উপায় নাই। রাস্তার দিকে চাইয়া থাকি—কেউ যদি একখান কম্বল লইয়া আসে।’

কথাগুলো সুনামগঞ্জ শহরতলির ইসলামপুর গ্রামের মধ্যবয়সী গৃহিণী দিলারা বেগমের। এক কম্বলে দুইজন ঘুমাতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনো কোনো শীতবস্ত্র পাননি।

চলমান শৈত্যপ্রবাহে সুনামগঞ্জ জেলাজুড়েই বিপর্যস্ত জনজীবন। সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে শহরতলি—সবখানেই দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতবস্ত্রের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেকে।

গত রোববার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি এলাকায় দিনমজুরদের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। প্রথমে টোকেন বিতরণ করা হলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সেখানে পৌঁছানোর পর তিনজনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। তবে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

সীমান্তবর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছবাব মিয়া বলেন, পাহাড়ঘেঁষা এই এলাকায় শীতের তীব্রতা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামে অন্তত তিন হাজারের বেশি হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ১২৭টি কম্বল, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে প্রথম দফায় ৫ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে, যা বিতরণ শেষ হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় শীতবস্ত্র কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩ লাখ টাকার শীতবস্ত্র কেনা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপের শীতবস্ত্র দুই-এক দিনের মধ্যে বিতরণ করা যাবে। পাশাপাশি আরও ৫ হাজার কম্বল আসছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আবহাওয়াবিদ সজীব আহমদ জানান, মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার আবহাওয়া পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম রয়েছে।

তীব্র এই শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad