সুনামগঞ্জ-১ আসনে চার প্রার্থীর লড়াই, হলফনামায় কোটিপতি দুজন
সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে আয়তন ও গুরুত্বের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সুনামগঞ্জ-১ আসন। তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা—এই চার উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ আসনের দুই প্রার্থী কোটিপতি।
হলফনামা অনুযায়ী কোটিপতি প্রার্থীরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তাঁদের দাখিল করা হলফনামা যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বিএনপি প্রার্থী আনিসুল হকের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, যানবাহন, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার সম্পদ। অর্জনকালে এসব সম্পদের মূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁর নামে রয়েছে ৫.২৭ একর কৃষিজমি, ১৯.৪০ একর অকৃষি জমি, পাকা ও সেমিপাকা ভবন এবং বাড়ি/এপার্টমেন্ট। এসবের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এছাড়া তাঁর স্ত্রী/স্বামীর নামে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণ ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৭৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং কৃষিজমি। তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে তাঁর নামে রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী পেশায় বর্তমানে ব্যবসায়ী। আগে তিনি চিকিৎসা ও শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও বাড়িভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় রয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, শেয়ার, যানবাহন, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র।
স্ত্রী/স্বামীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নামে রয়েছে জমি ও বাড়িসহ স্থাবর সম্পদ, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এছাড়া স্ত্রীর নামে রয়েছে জমি ও বাড়ি/এপার্টমেন্ট, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে হলফনামা অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-১ আসনে দুই কোটিপতি প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয় আসে—তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই। সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের প্রচারই এখানে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: