জামায়াত তার প্রার্থীকে দেবে ২০ লাখ টাকা
সুনামগঞ্জের অধিকাংশ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা আসবে বিদেশ থেকে
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামকে দল দেবে ২০ লাখ টাকা। বিএনপিসহ অন্য শক্তিশালী প্রার্থীদের বেশির ভাগেরই টাকা আসবে প্রবাস থেকে। প্রবাসীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরাই টাকা দেবেন বেশি। নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর ব্যাপারে তথ্য অনুসন্ধানে এমন কথাই জানা গেছে।
জাতীয় নির্বাচনে এই জেলায় অন্তর্ভুক্ত সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৬ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ৭ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৯ জন এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ৮ জন প্রার্থী নেমেছিলেন ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে। তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তবে আপিলে তাদের মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় সুনামগঞ্জ-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. সাখাওয়াত হোসেনের; যার পরিমাণ ৭২ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন ব্যয় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলীর; ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
যুক্তরাজ্য, গ্রিস, কানাডা, স্পেন, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব এলাকার প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা আসবে; যাদের মধ্যে অধিকাংশই টাকা দিচ্ছেন শক্তিশালী প্রার্থীদের।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুল হক নিজের ব্যবসা থেকে নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের ব্যবসা থেকে নির্বাচনে ৫ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী স্ত্রী দেবেন ৫ লাখ টাকা এবং আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১৩ লাখ টাকা।জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের বেতন-ভাতা থেকে ৫ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৮ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজন ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তির স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার নির্বাচনে ২৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের বার্ষিক আয়, জমি-জমা বিক্রি ও ধার করে ১৬ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ ৬ লাখ টাকা ও আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমান নির্বাচনে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্যরা দেবেন ২০ লাখ টাকা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের ব্যবসা ও ঘর ভাড়া থেকে ১ লাখ টাকা, স্ত্রী দেবেন ২৪ লাখ টাকা।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী নির্বাচনে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে ভাই, আত্মীয় ও কৃষি থেকে ২৩ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ ১৩ লাখ টাকা। বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আইনপেশা ও কৃষি খাত থেকে ১০ লাখ টাকা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই ভাই দেবেন ১৫ লাখ টাকা।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির নির্বাচনে ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আইন পেশা থেকে ২০ লাখ টাকা এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর দান ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনে ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের ব্যবসা থেকে ১ লাখ টাকা; যুক্তরাজ্য, গ্রিস ও কানাডাপ্রবাসী ভাইবোন ও ভাতিজি দেবেন ১৭ লাখ টাকা। আত্মীয়স্বজন ছাড়া স্পেন, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকার অন্যান্য ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১৮ লাখ ও অন্যান্য উৎস থেকে ৩৬ লাখ টাকা।জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত শোয়াইব আহমদ মাসিক বেতন থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব নির্বাচনে ১০ লাখ ১৫ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে কৃষি ও টিউশনি থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার, আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৭ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজন ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ২ লাখ টাকা।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ব্যবসা থেকে নির্বাচনে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী নির্বাচনে ৪২ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজ আয় ও নিকটাত্মীয়ের দান ২৫ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভাইবোন ও ছেলে দিচ্ছেন ১৭ লাখ টাকা। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান নির্বাচনে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন নিজের উৎস থেকে নির্বাচনে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। খেলাফত মজলিস মনোনীত শেখ মুশতাক আহমদ নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে প্রবাসী ও চাকরিজীবী ১ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান (প্রবাসী স্ত্রী, লন্ডন) ২৪ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) নির্বাচনে আইনপেশা থেকে অর্জিত ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৭ টাকা ব্যয় করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে কৃষি থেকে ৩০ হাজার ও আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ২ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ নির্বাচনে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে কৃষি থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, প্রবাসী দুলাভাই, মামাতো ভাই, দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত সৈয়দ তালহা আলম নিজের আয় থেকে নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল নির্বাচনে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আয় থেকে ১০ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৭ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজন ছাড়া স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ৩ লাখ টাকা। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন নির্বাচনে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত শহীদুল ইসলাম নির্বাচনে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আয় থেকে তিনি ব্যয় করবেন ৫০ হাজার টাকা।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আজিজুল হক নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আয় থেকে ৩ লাখ, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ ১৭ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা। জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হুদা নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আইন পেশা থেকে ৩ লাখ টাকা।
খেলাফত মজলিস মনোনীত আমিরুল ইসলাম নির্বাচনে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১৮ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজন ছাড়া স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ১৭ লাখ টাকা। এলডিপি মনোনীত মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) নিজের আইন পেশা থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৯ টাকা ব্যয় করবেন। স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবিদুল হক নির্বাচনে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজের আইন পেশা থেকে ৩ লাখ টাকা। এনপিপি মো. আজিজুল হক নিজের ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। খেলাফত মজলিস মোহাম্মদ আব্দুল কাদির নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজ আয় থেকে ৫ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র মো. সিরাজুল ইসলাম নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এরমধ্যে নিজ আয় থেকে ৫ লাখ টাকা।
জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২৩ লাখ টাকা আসবে প্রবাসী আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার বা কর্জ হিসেবে আর আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ২ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র মুশাহিদ আলী তালুকদার নির্বাচনে ব্যয় করবেন ১৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে নিজের আয় ৫ লাখ টাকা, লন্ডনপ্রবাসী আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধার বা কর্জ ১০ লাখ টাকা ও প্রবাসী আত্মীয়স্বজনদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান ২ লাখ টাকা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: