শ্বশুর-শাশুড়ি ধরতে প্রযুক্তির সহায়তা
সুনামগঞ্জে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর রিমান্ড আবেদন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ধোপাখালী এলাকায় গৃহবধূ সুমী দাস চৌধুরী (২১) মৃত্যুর ঘটনায় শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক স্বামী কিশাল শেখর দাশকে (২৪) পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর পর নিহতের মা বাবলী রানী চৌধুরী বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই স্বামী কিশাল শেখর দাশকে আটক করে পুলিশ।
নিহত সুমী দাস চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের ধনরঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে তিনি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ধোপাখালীর বাসিন্দা কুলেন্দু শেখর দাশের ছেলে কিশাল শেখর দাশকে বিয়ে করেন।
মামলার এজাহারে নিহতের মা উল্লেখ করেন, দুই মাস আগে স্বামী কর্তৃক মারধরের শিকার হয়ে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে এবং অসুস্থ অবস্থায় নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে দেড় মাস আগে শ্বশুর-শাশুড়ি গিয়ে তাকে আবার নিয়ে আসে। গত ৭ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাশুড়ি রীপা দাস ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান। পরে সদর হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের গলা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে স্বামীর বাড়িতে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমী দাস চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাশ মোহনা টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নিহতের ভাই মিঠুন চৌধুরী, যিনি যমুনা টেলিভিশনের হবিগঞ্জ প্রতিনিধির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, জানান—একমাত্র বোনের মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় রোববার নবীগঞ্জে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের কর্মসূচি রয়েছে।
কুলেন্দু শেখর দাশের ভাগ্নে ও দিরাই উপজেলার চরনার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, গ্রেপ্তারকৃত স্বামীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: