দোয়ারাবাজারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি
Led Bottom Ad

হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ

দোয়ারাবাজারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রি

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪/০১/২০২৬ ১২:১৯:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি)। কৃষিজমি থেকে কেটে নেওয়া এই মাটি ট্রাক ও ট্রলারে করে ইটভাটা, জমি ভরাট প্রকল্প ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুরমা, বাংলাবাজার, লক্ষ্মীপুর, দোয়ারাবাজার সদর, নরসিংপুর, বোগলাবাজার, পান্ডারগাঁও, মান্নারগাঁওসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই দিনের পর দিন প্রকাশ্যে টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। কোথাও রাতের আঁধারে আবার কোথাও প্রকাশ্যেই চলছে এই কর্মকাণ্ড। ফলে এক সময়ের উর্বর জমিগুলো ক্রমেই অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, টপ সয়েল অপসারণের ফলে জমির প্রাকৃতিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একাধিক মৌসুম পার হলেও এসব জমিতে আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং খাদ্য উৎপাদনেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শান্তিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমাদের জমির উপরিভাগের মাটিই সবচেয়ে উর্বর। সেটা কেটে নেওয়ার পর জমিতে ধান তো দূরের কথা, ঘাসও ঠিকমতো জন্মায় না। কয়েক হাজার টাকার লোভে কিছু মানুষ পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকায় উপজেলাজুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একটি মাটিখেকো চক্র। তারা নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করেই কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফসলি জমির উর্বরতা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পরিবেশবিদদের মতে, টপ সয়েল অপসারণ শুধু কৃষির ক্ষতি করছে না; বরং ভূমিধস, জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, ‘টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি রয়েছে। এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা কোনোভাবেই কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রি না করেন।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কেটে বিনষ্ট করার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এসব বন্ধে প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দোয়ারাবাজারের কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad