ক্ষোভ এলাকাবাসীর
জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে গিয়েও বন্ধ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙনরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে গিয়েও হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর রাণীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় পাকা ব্লক বসিয়ে নদী ভাঙনরোধে প্রায় ১ হাজার ৯৬৮ ফুট এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। গত বছর থেকে প্রকল্পের আওতায় নদীপাড়ে পাকা ব্লক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে শেষ মুহূর্তে কাজটি বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক ব্যক্তি নির্মাণকাজের চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিকভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুল হকসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী ভাঙনে আমরা বছরের পর বছর সর্বস্ব হারিয়েছি। সরকার ভাঙনরোধে প্রকল্প দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তেরা মিয়া বলেন, “কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে এই এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। অবশেষে ভাঙনরোধ প্রকল্প হওয়ায় এলাকাবাসী উপকৃত হওয়ার আশা করছিল। কিন্তু হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। জনপ্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কাজ শুরু করে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার লুৎফুর রহমান জানান, “স্থানীয় একজন ব্যক্তি আমাদের কাজ মোবাইলে ধারণ করে নেতিবাচক মন্তব্য করায় কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছেন। ব্লক নির্মাণের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজসহ নদী ভাঙনরোধ কার্যক্রম চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা না হলে বর্ষা মৌসুমে আবারও ভয়াবহ নদী ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: