‘শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য’
Led Bottom Ad

ড. বদিউল আলম মজুমদার

‘শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য’

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৫/০১/২০২৬ ১৭:০৬:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা টেকসই করতে গভীর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।

​রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের একটি হোটেলে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা সুজন এই সংলাপের আয়োজন করে।

​ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনই ছিল এই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’ বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন।

​বক্তব্যে তিনি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে সাতটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেন:

১. রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন।

২. টাকার অশুভ প্রভাব।

৩. নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা।

৪. নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা।

৫. নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা।

৬. পেশ পেশীশক্তির ব্যবহার।

৭. ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ।

​ড. মজুমদার নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ বা তোষামোদকারী না হয়ে ‘ওয়াচ ডগ’ বা প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়:

  • ​প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা।
  • ​সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন।
  • ​বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
  • ​দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন।
  • ​শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  • ​সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধ করা।

​সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে সিলেট বিভাগের চার জেলা (সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad