কোম্পানীগঞ্জে পাথর লুটকারীদের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক আহত: দেখা মাত্রই গ্রেপ্তারের নির্দেশ ওসির
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর রোপওয়ে (বাংকার) ও ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর লুটপাট ঠেকাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় রাসেল মিয়া নামে এক স্বেচ্ছাসেবক গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রাসেল বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হামলার ঘটনায় রাসেলের পিতা আলী হোসেন বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করেছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ধলাই নদীতে পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দেখা মাত্রই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পাথর লুটপাট এলাকায় সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং কাউকে দেখা গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।
সেচ্ছাসেবী রাসেলের ওপর হামলার প্রতিবাদে রবিবার বেলা ১১টায় পর্যটন ঘাটে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ফটোগ্রাফার এবং নৌকার মাঝিরা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে হামলার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবক কয়েকশ দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো বাহিনীর সরাসরি সাপোর্ট ছাড়া তাদের সেখানে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সাদাপাথর দেশের একটি গৌরব। কিছু দুষ্কৃতিকারীর জন্য এর সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। দুষ্কৃতকারী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে।”
কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি আনোয়ার সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, ফটোগ্রাফি ক্লাবের সভাপতি আকবর রেদওয়ান মনা, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ, নৌকা মাঝি সমিতির সভাপতি আইনুল হক প্রমুখ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: